মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৫ এপ্রিল ২০১৯

এক নজরে বিমান

 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স- জাতীয় পতাকাবাহী ক্যারিয়ার

                                                  

এ যাত্রার শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৪৭ বছর আগে। সম্ভবত যখন আমাদের সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের স্বাধীন মানুষগুলো আকাশপানে তাকিয়ে ভেবেছিল- একদিন আমাদেরও হবে এক স্বপ্নতরী, যাতে চড়ে উড়ে যাওয়া যাবে দূর-দূরান্তে। বাংলাদেশের জনগণের সেই আশা ও আকাঙ্ক্ষাই জন্ম দিয়েছে বিমানের। যার ডানায় চড়ে তারা ছাড়িয়ে যেতে পারবে সূর্যাস্তের রক্তিম দিগন্তটাকেও। আর ওই স্বপ্নটা সত্য হয়েছিল ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি।

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিমান । সরকারের দেওয়া বিমানবাহিনীর একটি ডিসি-৩ এয়ারক্রাফটের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ যাত্রা। ১৯৭২ সালের ৭ মার্চ চট্টগ্রাম ও সিলেটে এবং ৯ মার্চ যশোরে একটি ফ্লাইটের মাধ্যমে আকাশে উড়ে বিমান। এভাবেই শুরু হয়েছিল বিমানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম। এরপর থেকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি ঐতিহ্যের এ ধারকটিকে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের তিন দিন আগে অর্থাৎ ৪ মার্চ তারিখে ১৭৯ জন যাত্রীকে লন্ডন থেকে ঢাকায় নিয়ে আসার মাধ্যমে বিমানের প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সম্পন্ন হয়।

 

২০০৭ সালে বিমান পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০০৮ সালে নতুন প্রজন্মের ১০টি এয়ারক্রাফটের জন্য বোয়িং এয়ারক্রাফট কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসে বিমান। ১০টি এয়ারক্রাফটের মধ্যে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর আছে ৪টি, ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও ৪টি বোয়িং ৭৮৭। বিমানের ইতিহাসে যা সবচেয়ে বড় চুক্তি। দুটি ড্রিমলাইনার ছাড়া বাকি আটটি এয়ারক্রাফট ইতিমধ্যেই বিমানের বহরে যুক্ত হয়েছে। বাকি দুটো ড্রিমলাইনার বহরে যোগ হবে ২০১৯ সালের জুলাই ও সেপ্টেম্বরে। বোয়িং এয়ারক্রাফটগুলো বহরে যোগ করতে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক গ্যারান্টি প্রদানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের জন্য বিমান কৃতজ্ঞ। 

 

এখন বিমানের বহরে আছে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, পাঁচটি  বোয়িং ৭৩৭-৮০০, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার এবং তিনটি ড্যাশ-৮ কিউ-৪০০। আরো একটি  বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট এপ্রিল ২০১৯ এর শেষ সপ্তাহে বিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে। 

 

আইএটিএ (IATA) সংস্থার সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ শহরের যোগাযোগ ও অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের ৭টি গন্তব্যকে এক সুতোয় বেঁধেছে বিমান। তবে কিছু প্রক্রিয়াধীন চুক্তি রয়েছে যা সম্পন্ন হলে মোট ৫২টি দেশে সেবা প্রদানের সুযোগ পাবে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে বেশিরভাগ গন্তব্যেই সরাসরি বা একটি বিরতি নিয়ে যেতে পারবে বিমান। ঢাকা থেকে অন্যান্য আঞ্চলিক গন্তব্যগুলোতে সুবিধাজনক ট্রান্সফার কানেকশন সহজেই মিলবে। সুপ্রশিক্ষিত ও নিবেদিত কর্মী ও নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় রেকর্ডের জন্য বিমানের রয়েছে দারুণ সুখ্যাতি।

  

গ্রাহকদের চাহিদা ও তাদের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশাগুলো পুরোপুরি বুঝতে পারে বিমান। আর তাই এয়ারক্রাফট, সেবার মান, নেটওয়ার্ক, কেবিনের ইন্টেরিওর এবং ইন-ফ্লাইট বিনোদনেও উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে বিমান। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটিতে সংযুক্ত করা হয়েছে বিশ্বমানের ইনফ্লাইট বিনোদন (আইএফই) সিস্টেম। যাত্রীরা এখন ভূমি থেকে ৪৩,০০০ ফুট উঁচুতেও ওয়াই-ফাই উপভোগ করতে পারবেন এবং চলার পথেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ফোন-কল করতে পারবেন। এমনকি বিশ্বের নামকরা ৯টি টিভি চ্যানেল এখন অন-বোর্ড লাইভ সম্প্রচার করছে। যাত্রীভেদে রুচিতে আছে ভিন্নতা। আর সেই অনুযায়ী ইনফ্লাইট বিনোদনে রয়েছে বেশকটি ক্লাসিক ও ব্লকবাস্টার সিনেমা, নাটক, টেলিফিল্ম, গান ও দারুণ সব ভিডিও গেমস খেলার সুযোগ।

 

চলার পথে যাত্রীরা চাইলে চমৎকার একটি থ্রিডি  মানচিত্র দেখতে পারবেন। বোয়িং ৭৮৭-এর বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁকানো যায়। মানে আসনগুলো একদম ফ্ল্যাট বেড। বড় আকারের জানালা ও নিরিবিলি কেবিনে আছে মুড লাইট, ভ্রমণে যা যোগ করবে এক বাড়তি সতেজতার অভিজ্ঞতা। জ্বালানি-সাশ্রয়ী ড্রিমলাইনারটি অন্য এয়ারক্রাফটগুলোর তুলনায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানিতে চলে। সবুজ পরিবেশের জন্য যা এক বড় অবদান বটে।

 

যাত্রীদের ইন-ফ্লাইট অভিজ্ঞতা যতটা সম্ভব উপভোগ্য ও আরামদায়ক হবে, এমনটা নিশ্চিত করাই বিমানের লক্ষ্য। বিমানের প্রতিটি ফ্লাইটেই তাই যাত্রীদের ব্যক্তিগত চাহিদানুযায়ী সেবা প্রদান ও খুঁটিনাটি সকল বিষয়ে মনযোগ দেওয়ার মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি আতিথেয়তার প্রভাব উপলব্ধি করা যাবে। আর এ সেবা প্রদান করে আসছেন বিমানের নিবেদিতপ্রাণ পেশাদার কেবিন কর্মীরা। 

নিজস্ব এয়ারক্রাফটগুলোর পাশাপাশি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরো ২৬টি বিদেশী এয়ারলাইন্সকে সেবা প্রদান করছে বিমানের গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং ইউনিট।